ইদানিং শুনছি, কিছু টিভি চ্যানেল আর পত্রিকা বর্জনের ডাক দিলে নাকি এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। একবার দুই-একটাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে বাকিরা মনের ভুলেও এসব খবর প্রকাশের সাহস করবে না। মামলা ডিশমিশ!

গত ৪ অক্টোবর মিঠাপুকুর থানার একটা কেস এসেছিলো রংপুর মেডিকেলে। ভিকটিম বা অ্যাকিউজডের নাম-ধাম বা অন্য কোনো কিছুই সঙ্গত কারণে বলতে চাইছি না। ঘটনা হলো, ৮ বছরের একটা বাচ্চাকে তার বাবা-মা আরবি শিখতে মসজিদে পাঠায় বছর তিনেক আগে থেকে। বিগত দেড় বছর যাবৎ বাচ্চা মাঝেমধ্যেই আরবি শিখতে যেতে চায় না। মা পুরোটা সময় ভেবেছে তার ছেলে পড়াশোনায় ফাঁকি দিতেই যেতে চায় না। বকাবকি করে, মেরেধরে পাঠিয়েছে বিভিন্ন সময়। 

ছেলে বিভিন্ন সময় বলেছে, অ্যানাল রিজিয়নে ব্যথার কথা, জ্বালাপোড়ার কথা। মা ভাবছে কৃমি বা অন্য কিছু। ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধও খায়িয়েছে অনেকবার। অবশেষে একদিন ছেলে কেন আরবি শিখতে মোয়াজ্জিনের কাছে যাবে না এজন্যে মা'র পিটুনি খেয়ে মা'কে বলেছে- মোয়াজ্জিন পড়ানোর মাঝে তাকে ডেকে আরেক রুমে নিয়ে যায় মাথা টেপাতে। তারপরের কথাটুকুর জন্যে পুলিশ আমাদের যে রিকুইজিশন দিয়েছিলো সেখান থেকে একটা লাইন উদ্ধৃত করি-

"বাদীর ছেলেকে ...........জামে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বপার্শ্বে আসামীর থাকার রুমে নিয়া বিভিন্ন প্রলোভন দেখাইয়া বাদীর ছেলের পরণের পায়জামা খুলিয়া তাহার পায়ুপথ দিয়ে জোরপূর্বক ধৃত আসামী তার পুরুষ লিঙ্গ প্রবেশ করিয়া যৌন সঙ্গম করে।" 

এর বাইরেও আরো বেশ কিছু নোংরা জিনিস করিয়েছে যেটা লিখতে গা ঘিনঘিন করছে।

কথা হলো, আমাদের কাছে যে ছেলেটা এসেছে সে একা না, তার সাথে অন্যরা যারা পড়ে তাদের নিয়েও মোয়াজ্জিন তার রুমে যায়। একেকদিন একেকজন। ভিকটিমের মা'র মুখে শুনে অবাক হয়েছি, মোয়াজ্জিনের বউ জীবিত। সাথে এক ছেলে এবং এক মেয়েও আছে!

মাত্রই খবরে পড়লাম, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় আব্দুর রহমান নামে ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্র ‘বলাৎকারের’ শিকার হয়ে মারা গেছে। এই ছেলেটার বয়সও ৮। সেটা দেখে হঠাৎ মনে হলো। ছেলেটা স্রেফ আমাদের প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারছিলো না ওইদিন। তার মা কে ডেকেই আমাদের প্রশ্নগুলো করতে হয়েছিলো। মহিলাটা হু হু করে কেঁদেছে। আমার সাথে একজন বড় ভাই ছিলেন। এসব আমাদের বলার বিষয় না, তারপরও তিনি বলেছিলেন, ছেলেটাকে নিয়ে দূরে কোথাও গিয়ে বাসা নেন। সেখানে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। যেহেতু এলাকায় জানাজানি হয়েছে, এই পরিবেশে সাইকোলজিক্যালি সাউন্ড পরিবেশে বাচ্চাটা বড় হতে পারবে না।

এই ঘটনা সম্ভবত লোকাল পত্রিকাতেও আসেনি। ওই পরিবার বাচ্চাটাকে নিয়ে সম্ভবত অন্য কোথাও চলে যাবে। অপরাধ অনেক হচ্ছে। মূলধারায় আসে অতি নগণ্য পরিমান। খবরে আসতে হলে ভিডিও বা ছবি ভাইরাল হতে হয়, নতুবা আব্দুর রহমানের মত মরে যেতে হয়।

আমার এসবের প্রতিকার জানা নেই। তবে ইদানিং শুনছি, মূলধারার কিছু টিভি চ্যানেল আর পত্রিকা বর্জনের ডাক দিলে নাকি এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। একবার দু'-একটাকে সরিয়ে দিতে পারলে বাকিরা মনের ভুলেও এসব খবর প্রকাশের সাহস করবে না। মামলা ডিশমিশ!

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা