অন্য সব নির্মাতা যখন সস্তা-চটুল-স্থূল নাটক বানিয়ে চলেছেন, তখন একমাত্র অমিই একের পর এক শিক্ষণীয় নাটকের মাধ্যমে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

পত্রপত্রিকায় গত কয়েকদিন ধরে বেশ লেখালেখি হচ্ছে, এবারের ঈদে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জীবনঘনিষ্ঠ নাটক। এখন প্রশ্ন হলো, এই ঈদের সবচেয়ে জীবনঘনিষ্ঠ নাটক কোনটি? 'ইতি, মা', 'ভিকটিম', 'বোধ' এগুলোর কোনোটা? দর্শকের আগ্রহ যদি মূল বিবেচ্য বিষয় হয়, তাহলে তো কোন নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি, তার মাধ্যমেই এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাওয়া যায়। এবং সেই উত্তর খুব সহজ। কাজল আরেফিন অমির 'মাস্ক'।

কেন 'মাস্ক' ঈদের সবচেয়ে জীবনঘনিষ্ঠ নাটক? একটু ভাবলেই জবাবটা পেয়ে যাবেন। এই মুহূর্তে চলছে করোনাকাল। এবং করোনাকালে নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে জরুরি জিনিসটিই হলো মাস্ক। অর্থাৎ মাস্কই হলো সময়ের প্রধান আলোচ্য বিষয়। তাহলে মাস্ক বিষয়ক নাটকই কি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হওয়ার কথা নয়? অথচ খেয়াল করে দেখুন, অন্য কোনো পরিচালকই এই মাস্ককে তেমন গুরুত্বের সাথে তাদের নাটকে উপস্থাপন করেননি। ব্যতিক্রম শুধু একজন। তিনি সময়ের সেরা অমি। তিনি শুধু মাস্ককে গুরুত্বই দেননি, মাস্ক নিয়েই গোটা একটি নাটক বানিয়ে ফেলেছেন, এবং সেটির নামও দিয়েছেন 'মাস্ক'।

যে সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে শুরু করেছিল, মাস্ক ছাড়াই ঘরের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল এবং করোনার সংক্রমণ প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলছিল, ঠিক সেই সময়ে 'মাস্ক' নাটকটি নির্মাণের মাধ্যমে মাস্ককে আবারো সবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনলেন অমি। নিজের কোটি কোটি দর্শকের সামনে তিনি মাস্কের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরলেন 'মাস্ক'-এর মাধ্যমে।

এখন কেউ যদি বাইরে যান এবং দেখতে পান কোনো কিশোর বা তরুণ মাস্ক পরেছে, নিশ্চিত থাকতে পারেন, তারা অমির 'মাস্ক' দেখেই মাস্ক পরতে অনুপ্রাণিত হয়েছে। অর্থাৎ গণমাধ্যমের কাজ যদি হয় সমাজবাস্তবতা তুলে ধরা এবং জনগণের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া, তাহলে এই ঈদে সে কাজে 'মাস্ক' নাটকটিই সবচেয়ে সফল। বাংলাদেশ যদি খুব শীঘ্রই করোনামুক্ত হতে পারে, তার পেছনে বড় অবদানও থাকবে 'মাস্ক' নাটকটিরই।

আসলে বর্তমানে দেশে যে চরম দুর্যোগ চলছে, তাতে সব নির্মাতারই সমাজের কাছে একটা দায়বদ্ধতা ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায় সব নির্মাতাই সেই দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে, সস্তা-স্থূল-চটুল সব নাটক-টেলিফিল্ম বানিয়েছেন। দর্শকও তাই সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একমাত্র 'মাস্ক' নাটকটিই হলো বিরলতম সেই নির্মাণ, যা সমাজকে শিক্ষণীয় কিছু উপহার দিয়েছে, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ফলে দর্শকও দুহাত ভরে সেটিকে গ্রহণ করেছে, পরিণত করেছে ঈদের সফলতম নাটকে।

কাজল আরেফিন অমি গত কয়েক বছর ধরেই দেশের সবচেয়ে মেধাবী, প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা। বাংলাদেশি নাটককে যদি কেউ বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারে, তবে সেটি হলেন অমি। তিনি যেভাবে তার কাজের মাধ্যমে দর্শককে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দেন আবার বিনোদিতও করেন, তার কোনো তুলনা হয় না। আবার তার নাটকগুলো পরিবারের সবাই মিলে একসাথে দেখা না গেলেও, পরিবারের প্রতিটি সদস্য আলাদা আলাদাভাবে সেগুলো দেখে ভিউ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। দিনশেষে তাই লাভ হয় প্রযোজকদেরই। তারা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের কয়েকগুণ ফিরে পান, এবং ভবিষ্যতে এমন ভালো ভালো আরো কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করতে উৎসাহ পান।

অথচ এরপরও অনলাইনে অনেককেই দেখি অমির সাফল্য দেখে হিংসায় জ্বলেপুড়ে মরে, নানাভাবে তার সম্মানহানির চেষ্টা করে। কিন্তু অমি এমনই সৃজনশীল একজন মানুষ, যিনি মুখে নিন্দুকদের উত্তর দেয়ার বদলে, 'মাস্ক' নাটকের শেষে আইটেম সংয়ের মাধ্যমে একটি শৈল্পিক বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সুরে সুরে জানিয়েছেন,

সবাই যে চুরি করে
আমি নাই সে দলে
আমার ভালো কথা কেন
সবাই মন্দ বলে
কার গলার মালা কারে পরাও
কার ভাগ্য কার কপালে
আমি কিচ্ছু করতে গেলে
তোমার শরীর কেন জ্বলে?

এর উত্তরও তিনি গানের মাধ্যমেই দিয়েছেন। যারা তার কাজ নিয়ে নিন্দা-মন্দ করে, তাদের আসলে "খাইয়া কাম নাই"। এরপরও যদি নিন্দুকদের শিক্ষা না হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। তারা যদি সব জেনেবুঝেও উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে থাকে, তাতে কিন্তু কারো কিছুই যায় আসে না। 'মাস্ক' নাটকের জয়যাত্রা চলছে, চলবে। খুব শীঘ্রই তিন মিলিয়ন ভিউ পেয়ে যাবে নাটকটি। আর এরকম শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য নাটকের মাধ্যমেই বাংলা নাটকের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনবেন অমি।

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা